expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Pages

Showing posts with label Technical Terms. Show all posts
Showing posts with label Technical Terms. Show all posts

Sunday, 1 February 2026

Technical Analysis

টেকনিক্যাল এনালাইসিস (Technical Analysis): একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ গাইড

টেকনিক্যাল এনালাইসিস বা প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মূল লক্ষ্য হলো বাজারের গাণিতিক এবং মনস্তাত্ত্বিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ট্রেডিংয়ের সুযোগগুলো চিহ্নিত করা। একটি সুশৃঙ্খল এবং নিয়ম-ভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে এটি দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনে সহায়তা করে।

Video


সিকিউরিটি বিশ্লেষণের প্রাথমিক পদ্ধতি

বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সাধারণত দুটি প্রাথমিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়: 

১. মৌলিক বিশ্লেষণ (Fundamental Analysis): কোম্পানির ব্যবসায়িক ফলাফল (যেমন আয়, বিক্রয়, সম্পদ) মূল্যায়নের মাধ্যমে শেয়ারের অভ্যন্তরীণ মান নির্ধারণ করে।

 ২. প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ (Technical Analysis): শেয়ারের ঐতিহাসিক মূল্য এবং ভলিউম (Volume) ডেটা মূল্যায়নের মাধ্যমে দামের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা পূর্বাভাস দেয়।

 Here is an updated version of your blog post. I have refined the language to be more professional while keeping your original Bengali explanations, and I have added sections that reflect your expertise in market cycles and specific indicator strategies.


টেকনিক্যাল এনালাইসিস (Technical Analysis): একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ গাইড

টেকনিক্যাল এনালাইসিস বা প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মূল লক্ষ্য হলো বাজারের গাণিতিক এবং মনস্তাত্ত্বিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ট্রেডিংয়ের সুযোগগুলো চিহ্নিত করা। একটি সুশৃঙ্খল এবং নিয়ম-ভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে এটি দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনে সহায়তা করে।

সিকিউরিটি বিশ্লেষণের প্রাথমিক পদ্ধতি

বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সাধারণত দুটি প্রাথমিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়: ১. মৌলিক বিশ্লেষণ (Fundamental Analysis): কোম্পানির ব্যবসায়িক ফলাফল (যেমন আয়, বিক্রয়, সম্পদ) মূল্যায়নের মাধ্যমে শেয়ারের অভ্যন্তরীণ মান নির্ধারণ করে। ২. প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ (Technical Analysis): শেয়ারের ঐতিহাসিক মূল্য এবং ভলিউম (Volume) ডেটা মূল্যায়নের মাধ্যমে দামের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা পূর্বাভাস দেয়।


টেকনিক্যাল এনালাইসিসের মূল ভিত্তি (Core Principles)

টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস মূলত তিনটি প্রধান ধারণার উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে:

  1. বাজার সমস্ত তথ্য ধারণ করে (The Market Discounts Everything): একটি স্টকের দামের মধ্যে কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল, বর্তমান অর্থনীতি এবং বাজারের মনস্তত্ত্ব—সবকিছুই প্রতিফলিত থাকে। তাই আলাদাভাবে নিউজ বা ডাটা খোঁজার চেয়ে চার্টের মূল্যের দিকে নজর দেওয়া বেশি কার্যকর।

  2. মূল্য ট্রেন্ড বা ধারা অনুসরণ করে (Price Moves in Trends): স্টকের দাম এলোমেলোভাবে না চলে একটি নির্দিষ্ট ট্রেন্ড (Up, Down, or Sideways) অনুসরণ করে। "Trend is your friend"—যতক্ষণ না ট্রেন্ড পরিবর্তনের স্পষ্ট সংকেত পাওয়া যায়, ততক্ষণ পূর্বের ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

  3. ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে (History Tends to Repeat Itself): বাজারের চার্টে যে চার্ট প্যাটার্নগুলো তৈরি হয়, তা মূলত বিনিয়োগকারীদের আবেগ (লোভ, ভয়, উত্তেজনা) থেকে তৈরি। যেহেতু মানুষের আচরণ বারবার একই থাকে, তাই চার্টের প্যাটার্নগুলোও বারবার ফিরে আসে।


টেকনিক্যাল এনালাইসিস কি?

প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ হ'ল ঐতিহাসিক মূল্য এবং (যেখানে পাওয়া যায় সেখানে) ভলিউম ডেটা মূল্যায়নের মাধ্যমে আর্থিক বাজারের দামের দিকনির্দেশনা পূর্বাভাস দেওয়ার একটি পদ্ধতি।

টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস হল একটি ট্রেডিং ডিসিপ্লিন যা ট্রেডিং অ্যাক্টিভিটি থেকে সংগৃহীত পরিসংখ্যানগত প্রবণতা, যেমন দামের গতিবিধি এবং ভলিউম বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগের মূল্যায়ন এবং ট্রেডিং সুযোগ চিহ্নিত করার জন্য ব্যবহার করা হয়। মৌলিক বিশ্লেষণ যেখানে বিক্রয় এবং উপার্জনের মতো ব্যবসায়িক ফলাফলের উপর ভিত্তি করে নিরাপত্তার মান মূল্যায়ন করার চেষ্টা করে, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ সেখানে মূল্য এবং ভলুমের অধ্যয়নের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।




All relevant information about a stock is already reflected in the stock price
স্টক সম্পর্কিত সমস্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য ইতিমধ্যে শেয়ারের দামে প্রতিফলিত হয়

প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বিশ্বাস করেন যে কোনও সংস্থার ফান্ডামেন্টাল থেকে শুরু করে ব্রড মার্কেট ফ্যাক্টর, বাজার মনস্তত্ত্বের সমস্ত কিছু ইতিমধ্যে স্টকের দামের মধ্যে নিহিত রয়েছে। এটি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়গুলি আলাদাভাবে বিবেচনা করার প্রয়োজন নাই।


Stock price moves in trends
স্টক প্রাইস বিশৃঙ্খল ভাবে চলার চেয়ে অতীত ধারা অব্যাহত রাখার সম্ভাবনা বেশি।


History tends to repeat itself in the stock market
মূল্য পুনরাবৃত্তিপূর্ণ

প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বিশ্বাস করেন যে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়। মূল্য পুনরাবৃত্তিপূর্ণ প্রকৃতির, এর জন্য প্রায়শই বাজার মনোবিজ্ঞানকে দায়ী করা হয় যা লোভ, ভয় বা উত্তেজনার মতো আবেগের উপর নির্ভরশীল।



টেকনিক্যাল এনালাইসিস আমাদের যেভাবে সাহায্য করে

  • সঠিক এন্ট্রি ও এক্সিট: কখন শেয়ার কিনতে হবে এবং কখন বিক্রি করে লাভ নিতে হবে তা নির্ধারণ করা।

  • মার্কেট সাইকেল বোঝা: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (DSE) প্রেক্ষাপটে বাজার বর্তমানে কোন পর্যায়ে (Accumulation, Markup, or Distribution) আছে তা বুঝতে সাহায্য করে।

  • দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ: চার্ট দেখে খুব অল্প সময়ে অনেকগুলো স্টকের মধ্য থেকে সেরাটি বেছে নেওয়া সম্ভব।

অনেকেই মনে করে থাকেন যে টেকনিক্যাল এনালাইসিসের মাধ্যমে সঠিক প্রাইস টার্গেট বের করা যায়। কিন্তু এই ধারনা সঠিক নয়। টেকনিক্যাল এনালাইসিসের মাধ্যমে প্রাইস ট্রেন্ড, সাপোর্ট রেজিস্ট্যান্স সম্বন্ধে ধারনা করা যায় মাত্র।

লক্ষ্য বা টার্গেট নির্ধারণ নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা

অনেকেই মনে করেন টেকনিক্যাল এনালাইসিস মানেই হলো গাণিতিকভাবে নিখুঁত টার্গেট বলে দেওয়া। আসলে বিষয়টি তা নয়। টেকনিক্যাল এনালাইসিস আমাদের সম্ভাব্য সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স লেভেলগুলো চিনিয়ে দেয়।

টার্গেট নির্ধারণ করা একজন এনালিস্ট বা ট্রেডারের ব্যক্তিগত দক্ষতার ওপর নির্ভর করে। মার্কেট কন্ডিশন বুঝে কেউ নিকটবর্তী রেজিস্ট্যান্সকে টার্গেট ধরেন, আবার কেউ ট্রেন্ড শক্তিশালী থাকলে বড় টার্গেটের জন্য অপেক্ষা করেন। এটি মূলত একটি সম্ভাবনার খেলা (Game of Probabilities), যেখানে আমরা রিস্ক-রিওয়ার্ড রেশিও ঠিক রেখে ট্রেড করি।



টেকনিক্যাল এনালাইসিস বুঝতে আমরা সাধারণতঃ যে টেকনিক্যাল টুলসগুলির গুরুত্ত্ব দিয়ে থাকিঃ


আপনার পছন্দ হয়েছে জেনে খুশি হলাম! আপনার ব্লগের বর্তমান কন্টেন্টের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমি টেক্সটটি আরও গুছিয়ে দিচ্ছি। আপনি চাইলে নিচের এই কাঠামোটি সরাসরি ব্যবহার করতে পারেন:


টেকনিক্যাল এনালাইসিস (Technical Analysis): একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ গাইড

টেকনিক্যাল এনালাইসিস বা প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মূল লক্ষ্য হলো চার্টে মূল্যের মুভমেন্ট এবং ভলিউম বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাজারের ভবিষ্যৎ গতিবিধি পূর্বাভাস দেওয়া। এটি মূলত একটি নিয়ম-ভিত্তিক (Rule-based) পদ্ধতি যা একজন ট্রেডারকে আবেগমুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

সিকিউরিটি বিশ্লেষণের প্রাথমিক পদ্ধতি

বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সাধারণত দুটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়: 

১. মৌলিক বিশ্লেষণ (Fundamental Analysis): এটি কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, আয়-ব্যয় এবং ম্যানেজমেন্টের ওপর ভিত্তি করে শেয়ারের প্রকৃত মান নির্ধারণ করে। 

২. প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ (Technical Analysis): এটি শেয়ারের ঐতিহাসিক মূল্য এবং লেনদেনের পরিমাণ (Volume) বিশ্লেষণের মাধ্যমে কেনা-বেচার সঠিক সময় নির্ধারণ করে।


টেকনিক্যাল এনালাইসিসের মূল ভিত্তি (Core Principles)

টেকনিক্যাল এনালাইসিস মূলত তিনটি প্রধান ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে:

  1. বাজার সমস্ত তথ্য ধারণ করে (The Market Discounts Everything): একটি শেয়ারের দামের মধ্যেই তার ফান্ডামেন্টাল এবং বাজারের সব খবর প্রতিফলিত থাকে। তাই আলাদা করে নিউজ খোঁজার চেয়ে চার্টের প্রাইস অ্যাকশন দেখা বেশি কার্যকর।

  2. মূল্য ট্রেন্ড বা ধারা অনুসরণ করে (Price Moves in Trends): শেয়ারের দাম সাধারণত একটি নির্দিষ্ট ট্রেন্ডে (Up, Down, or Sideways) চলে। যতক্ষণ না ট্রেন্ড রিভার্সাল বা পরিবর্তনের স্পষ্ট সংকেত পাওয়া যায়, ততক্ষণ পূর্বের ধারা বজায় থাকার সম্ভাবনাই বেশি থাকে।

  3. ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে (History Tends to Repeat Itself): বিনিয়োগকারীদের মনস্তাত্ত্বিক আচরণের কারণে চার্টে নির্দিষ্ট কিছু প্যাটার্ন বারবার দেখা যায়। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা ভবিষ্যতের মুভমেন্ট বুঝতে পারি।


আধুনিক ট্রেডিং টুলস এবং স্ট্র্যাটেজি

একজন সফল টেকনিক্যাল এনালিস্ট হিসেবে আমি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE)-এর মার্কেট সাইকেল অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট টুলস ব্যবহার করি:

  • মুভিং এভারেজ (Moving Averages): ট্রেন্ডের শক্তি বুঝতে বিশেষ করে ৫০ এবং ১২০ ইএমএ (EMA) স্ট্র্যাটেজি অত্যন্ত কার্যকর।

  • বলিঙ্গার ব্যান্ডস (Bollinger Bands): মার্কেটের অস্থিরতা (Volatility) এবং ব্রেকআউট পয়েন্টগুলো নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে এটি ব্যবহার করা হয়।

  • ভলিউম বিশ্লেষণ: দাম বাড়ার সময় ভলিউমের সাপোর্ট আছে কি না তা যাচাই করা অপরিহার্য।


লক্ষ্য বা টার্গেট নির্ধারণ নিয়ে কিছু কথা

অনেকেই মনে করেন টেকনিক্যাল এনালাইসিস মানেই হলো গাণিতিকভাবে নির্দিষ্ট টার্গেট বলে দেওয়া। আসলে বিষয়টি হলো সম্ভাব্যতা (Probability) যাচাই করা। একজন এনালিস্ট চার্ট দেখে সম্ভাব্য সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স লেভেলগুলো চিহ্নিত করেন। মার্কেট কন্ডিশন বুঝে ট্রেডারকে তার নিজস্ব রিস্ক-রিওয়ার্ড রেশিও অনুযায়ী টার্গেট এবং স্টপ লস সেট করতে হয়।


উপসংহার

টেকনিক্যাল এনালাইসিস শেখার অর্থ হলো চার্টের ভাষা বুঝতে শেখা। আপনি যদি একজন সুশৃঙ্খল ট্রেডার হতে চান, তবে আপনাকে অবশ্যই চার্ট প্যাটার্ন এবং ইন্ডিকেটরের সঠিক সমন্বয় শিখতে হবে।


ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস

ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস কি?
ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস হলো সেই পদ্ধতি যার মাধ্যমে কেউ মৌলিক অর্থনৈতিক কারণগুলি (যা এর মূল্যকে প্রভাবিত করে) বিবেচনায় এনে স্টকটির আভ্যন্তরীন মান গণনা করার চেষ্টা করে।


Fundamental Analysis এ অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কারনগুলিকে চাহিদা ও যোগানের হ্রাস বৃদ্ধির নিয়ামক মনে করা হয় ও স্টকটির অভ্যন্তরীণ মান গণনা করতে ব্যবহার করা হয়। এখানে কোম্পানির বৈশিষ্ঠ্যকেও মূল্য নির্ধারনের উপকরণ মনে করা হয়।




ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস ও টেকনিক্যাল এনালাইসিসের তুলনা




Tuesday, 13 June 2017

MONEY MANAGEMENT

মানি ম্যানেজমেন্ট 

প্রত্যেক ট্রেডারেরই উদ্দেশ্য থাকে লাভ করা। কিন্তু লস ট্রেডের এক অবশ্যম্ভাবী অনুষঙ্গ। বিজয়ী তারাই যাদের লস এমাউন্ট থেকে লাভ এমাউন্ট বেশি।

একজন ট্রেডারকে এটা মানতেই হবে যে তার ট্রেডের একটা বড় অংশ অনিশ্চিত জুয়ার মত। কারন যত এনলাইসিসই করুন না কেন তার ট্রেড থেকে তিনি লাভ পাবেন এটা নিশ্চিত না। বাজারের বহু ফ্যাক্টর আছে যা মূল্যের গতি যেকোন সময় ইচ্ছার বিপরীতে নিয়ে যেতে পারে। তাই তাকে লস মেনে নেয়ার মানসিকতা নিয়েই ট্রেড করতে হয়।

একজন ভাল ট্রেডার ৫০% ট্রেডে প্রফিট করে থাকেন। আর সেরারা ৬০%। সাধারণভাবে ২০ টা ট্রেডের মধ্যে আপনি যদি ৮ টা ট্রেড ভাল করেন অর্থাৎ ১২টাতেই লস করেন, কিন্তু যে অর্থ লস করলেন তার চেয়ে যদি জেতার অর্থ বেশি হয় তাহলে আপনি একজন ভাল ট্রেডার।

মানি ম্যানেজমেন্ট স্টক ট্রেডিং এর অতি গুরুত্ত্বপূর্ণ অংগ। এর মধ্যেই শেয়ার বাছাই ও মানি ম্যানেজমেন্ট রুলস মেনে চলা। মানি ম্যানেজমেন্ট রুলস মেনে না চললে আপনি প্রফিট করতে পারবেন না।

মানি ম্যানেজমেন্টের তিনটি গুরুত্ত্বপূর্ণ সুত্রঃ
  • আমার পোর্ট ফলিওতে প্রতিটা ট্রেডে আমি কতটুকু ঝুঁকি নিতে পারি?
  • একই সংগে আমি কতগুলি ট্রেড ওপেন করতে পারি?
  • আমার রিস্ক রিওয়ার্ড রেশো কি?
আপনার ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমই আপনাকে বলে আপনি একটা ট্রেড ওপেন করলে কতগুলি শেয়ার নিতে পারেন।

আপনার ঝুঁকি কত বড়?
ছোট থেকেই শুরু করেন। আপনি যদি এই প্রথম শেয়ার ব্যবসায় শুরু করে থাকেন তবে খুব অল্প ঝুঁকি নিন। পূঁজির ০.৪% থেকে ০.৫%।  আপনি জিততে থাকুন আর ঝুঁকির পরিমানও বাড়াতে থাকুন।
ফান্ড ম্যানেজারদের অনুমোদিত ঝুঁকি এর চেয়ে কিছু বেশি। আপনার একাউন্টের আকারের উপর ০.২% থেকে ৫% মাত্র।

উদাহরণঃ
আপনার একাউন্ট সাইজ যদি ১,০০,০০০/ (এক লক্ষ) টাকা হয় আর যদি ঝুঁকি নেন ১% তাহলে আপনি ১,০০,০০০ x ১% = ১,০০০/ টাকার ঝুঁকি নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে আপনার স্টপ লস ও এন্ট্রির দূরত্ব হতে হবে ১ টাকা। আপনি বাই দিতে পারেন মাত্র এক হাজার শেয়ার। যদি মূল্যে সংকুলান হয়।
সমীকরণঃ  (absolute risk)/(point of distance between entry and stop-loss level)
        ১,০০০/(এন্ট্রি-স্টপলস)
তাহলেই কি আপনি এক হাজার শেয়ারের পজিসন ওপেন করতে পারবেন? না, তা নয়। আপনাকে অবশ্যই অন্যান্য মানি ম্যানেজমেন্ট রুলস মেনে চলতে হবে।

নিচের চিত্রে
এন্ট্রি ১৭.৬০
স্টপলসঃ ১৬.৮০
টার্গেট ২৪.৬৬


উপরের ফর্মুলা অনুযায়ি আপনি কতগুলি শেয়ার কিনতে পারবেন?
১,০০০/(১৭.৬০-১৬.৮০)=১,০০০ টি
আপনার বাকি টাঁকা অলস রাখতে হবে। ১,০০০X১৭.৬০=১৭,৬০০ টাকার শেয়ার কিনেছেন। 
অবশিষ্ঠ ১,০০,০০০-১৭,৬০০=৮২,৪০০


আপনি কতগুলি ট্রেড একবারে ওপেন করতে পারেন?

আপনার যদি অনেকগুলি ওপেন ট্রেড থাকে তবে আপনি ম্যানুয়েলি হ্যান্ডেল করতে পারবেন না। ম্যানুয়েলি হ্যান্ডেল করার মত সংখ্যাই আপনাকে রাখতে হবে। আপনি বড় জোর ৮টা ট্রেড ওপেন করতে পারেন। ৫/৬টা ট্রেডই একজন ট্রেডারের জন্য যথেষ্ঠ। আপনি যদি  একজন শিক্ষানবীশ হয়ে থাকেন তবে এ সংখ্যাটা আরো কম। ৩ থেকে ৫ টা মাত্র।

উদাহরণঃ

ধরুন আপনার একাউন্ট সাইজ ১,০০,০০০ টাকা। আপনি ৫টা পজিশন ওপেন করতে চান। আপনার মার্জিন ২ঃ১। তার অর্থ আপনি প্রতি ট্রেডে ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) টাকা নিতে  পারেন।
ক্যালকুলেশনঃ ১,০০,০০০ x ২/৫ = ৪০,০০০।
তাই যখন আপনি ২০ টাকা মূল্যের ABC  স্টকটা কিনতে চান তখন আপনি সর্বোচ্চ ২,০০০ টা শেয়ার কিনতে পারেন।

রিস্ক রিওয়ার্ড রেশো
Risk Reward Ratio
রিস্ক রিওয়ার্ড অনুপাতটি বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগর প্রতি টাকার উপার্জন করতে কতটা ঝুঁকি নিতে পারে ।  নিম্নলিখিত উদাহরণটি বিবেচনা করুন: 1: 7 রিস্ক-রিওয়ার্ড অনুপাত বলতে বুঝায় ১টাকা ঝুঁকিতে ৭টাকা রিওয়ার্ড (প্রফিট) । বিকল্পভাবে, 1: 3 এর ঝুঁকি / পুরষ্কারের অনুপাতটি ইঙ্গিত দেয় যে কোনও বিনিয়োগকারী তাদের বিনিয়োগের জন্য ৩ টাকা উপার্জনের প্রত্যাশার জন্য ১ টাকা ঝুঁকি নিতে পারে।
৫টাকা ঝুঁকি নিয়ে যদি ১০টাকা লাভ করতে পারে তবে অনুপাতটি ১ঃ২।

আপনার রিস্ক রিওয়ার্ড অনুপাত
নতুনদের জন্য ১ঃ২.৫ অনুপাতের নিচে কখনোই না।
আপনার যদি সাকসেস হিস্টোরি থাকে তবে ১ঃ৩ অনুপাতও নেয়া যায়।

মানি ম্যানেজমেন্টের আরো কিছু বিধি নিষেধ,
ওই শেয়ারগুলি ট্রেড করুন যেগুলি তুলনামূলক বেশি সংখ্যক ট্রেড হয়। আর যে সমস্ত শেয়ারের মূল্য ফেস ভেলুর উপরে। বড় বিনিয়োগকারি আর ইন্সটিটিউশনগুলি ছোট শেয়ার আর ফেসভেলুর নিচের শেয়ারে সাধারণতঃ বিনিয়োগ করে না। এই শেয়ারগুলির মূল্য সহজে ম্যানিপুলেট করা যায়। ফলে টেকনিক্যাল এনালাইসিস কাজ করে না।

পজিশন সাইজিং স্ট্র্যাটেজি

আপনাকে স্টক মার্কেট ট্রেন্ড সম্পর্কে সুস্পষ্ঠ ধারনা রাখতে হবে। ট্রেন্ডের সংগে সামঞ্জস্যপূর্ণ ট্রেডিং সিস্টেম ও স্ট্র্যাটেজি তৈরি করে নিতে হবে। আমাদের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সংগে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে আমাদের ট্রেডিং স্ট্র্যাটেজি।

In bull markets we can only be long or neutral, and in bear markets we can only be short or neutral. That may seem self-evident; it is not, and it is a lesson learned too late by far too many.Dennis Gartman

(শর্ট পজিশন আমাদের দেশে প্রযোজ্য নয়)

পজিশন সাইজিং কি?
একজন বিনিয়োগকারি কতগুলি সিকিউরিটিতে  বিনিয়োগ করতে পারে।
এক্ষেত্রে তার একাউন্ট সাইজ ও ঝুঁকি মোকাবেলার ক্ষমতা বিবেচনায় রাখতে হবে।
(একাউন্ট সাইজ ও ঝুঁকি নিয়ে উপরে আলোচনা করা হয়েছে।)

মার্কেট পরিস্থিতির মোকাবেলায় পজিশন সাইজ ব্যবস্থাপনা

আপনাকে জানতে হবে কখন এগ্রেসিভ হতে হবে আর কখন রক্ষণশীল আচরণ করতে হবে, আর কখনই বা মারকেট থেকে বের হয়ে যেতে হবে। এই বিষয়গুলি খুব গুরুত্ত্বের সংগে বিবেচনায় রাখতে হবে।

আমরা কখনো মার্কেটে থাকি আবার কখনো মার্কেট থেকে বের হয়ে যাই। মার্কেট ট্রেন্ডের উপর সতর্ক নজর রাখতে হবে। সেই অনুযায়ি আমাদের ট্রেডিং প্ল্যান তৈরি করতে হবে। সব ধরনের মার্কেট ট্রেন্ডে যদি ট্রেডার সব সময় একই সাইজে ট্রেড করে তবে তিনি অবশ্যই দীর্ঘ মেয়াদি লোকসানে পড়ে যাবেন।

বুলিশ পরিস্থিতিতে পজিশন সাইজিং

বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পজিশন সাইজিং বিভিন্ন হয়ে থাকেঃ

Dhaka Stock Exchange bullish market 

এগ্রেসিভ লং পজিসন সাইজিং
বুলিশ পরিস্থিতিতে মানি ম্যানেজমেন্ট রুলস মেনে মার্কেট সম্পূর্ন নিয়োজিত (aggressive trading) থাকতে পারেন।

রক্ষণশীল পজিশন
এই পরিস্থিতিতে বুলিস ট্রেন্ডই কাম্য। মার্কেট কারেকশন শেষে পুলব্যাকে বাই এন্ট্রি দিতে হবে। অর্থাৎ মার্কেট যখন বিয়ারিস থাকবে তখন মার্কেট থেকে বের হয় যেতে হবে। আবার পুলব্যাকে বাই এন্ট্রি। এর জন্য প্রয়োজন মার্কেটের টেকনিক্যাল ও ফান্ডামেন্টাল জ্ঞান।



শর্ট পজিসন সাইজিং
ডিএসই তে আমরা যেহেতু সেল পজিসন নিতে পারি না তাই এইটা আমাদের প্রয়োজন নাই।

ট্রেড বিহীন ক্যাশ হাতে রাখাও একটা ট্রেডিং স্ট্র্যাটেজি
মার্কেট পরিস্থিতি কখনো এমন হয় যে আপনার ট্রেড সেটআপের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। যে শেয়ারগুলি উপরে উঠে গেছে তার পিছু ধাওয়া করা বোকামি। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

স্টক মার্কেট সব সময় পরিবর্তিত হচ্ছে। নিয়মিত এনালাইসিস আপনার ট্রেডিং রেজাল্টকে ভাল করতে পারে।

ট্রেড ম্যানেজমেন্ট ও ট্রেইলিং স্টপলস
ট্রেইলিং স্টপলসের ধারনাটা পরিস্কার হওয়া দরকার। আমরা ট্রেড সেটআপের সময় একটা স্টপলস নেই। কিন্তু যখন প্রাইস উপরে উঠে যায় তখন আমরা চাইব যে স্টপলসটা এন্ট্রি পয়েন্টের উপরেই থাকুক। এতে আমরা বেশ স্বস্তি পাই। এইটাই ট্রেইলিং স্টপ লস।

ভাল ট্রেডারদের স্টপ দেয়ার একটা নিজস্ব স্টাইল আছে।  স্টপলস ম্যানেজমেন্টও ট্রেড ম্যানেজমেন্টের একটা অংশ। 

এই গুরুত্ত্বপূর্ণ বিষয়টা অনেকেই এড়িয়ে যান। কিন্তু পজিশন ওপেন করলেইতো আর ট্রেড শেষ হয় না। ট্রেড আপনাকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে ও সেই অনুযায়ি ব্যবস্থা নিতে হবে। একটা ভাল ট্রেডিং সিস্টেমে নিয়মিত রিস্ক লেভেলে পরিবর্তন আনার ব্যবস্থা থাকে।


Sunday, 27 December 2015

Target

Target
টার্গেট
কিভাবে নির্ধারণ করবেন?

ট্রেডারের অভিজ্ঞতা ও তার জ্ঞানের উপরেই নির্ভর করে। যদিও প্যাটার্ন টার্গেট সব সময় সঠিক নয়। প্যাটার্নের বাইরেও আপনার ধারনা প্রসারিত করতে হবে। যেমন ধরুন, চ্যানেল। চ্যানেল যখন ফ্ল্যাগ তখন চ্যানেলের টারগেট ফ্ল্যাগ পোলের উচ্চতা। আবার বটম থেকে স্ট্রং রিভারসাল হয়েছে। ডবল বটম সঙ্গে পজিটিভ ডাইভারজেন্স। তখন টার্গেট আগের হাই না। তখন টার্গেট ফাইবো ২৬১.৮%। এধরনের বহু ব্যতিক্রম লক্ষ্য করবেন।

Channel

চ্যানেল
 কন্টিন্যুয়েশন প্যাটার্ন। এই প্যাটার্ন ব্যাপকভাবে পরিদৃষ্ট হয় ও সহজে শনাক্ত করা যায়। ট্রেড করাও সহজ এবং উইন রেট ৭৭% এর উপরে।

শনাক্তকরণ
Identification

প্রাইস দুইটা সমান্তরাল ট্রেন্ড লাইনের সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকে। নিচের লাইনটা সাপোর্ট। উপরের লাইনটা রেজিস্ট্যান্স।


চ্যানেল এসেন্ডিং (Ascending Channel), দুইটা ট্রেন্ড লাইনই উপরের দিকে মুখ ও ডিসেন্ডিং (Descending Channel), নিচের দিকে মুখ থাকে । আর যেই চ্যানেলের উভয় ট্রেন্ড লাইনই ভূমির সঙ্গে সমান্তরাল তাকে Horizontal Channel বলে।



এসেন্ডিং চ্যানেল
Ascending Channel
(with measuring rules)

এসেন্ডিং চ্যানলে ডাউন ব্রেক হয়।

অংকন
কমপক্ষে দুইটা সুইং হাই যোগ করুন ও উভয় দিকে বর্ধিত করুন। এবার অনুরূপভাবে দুইটা সুইং লো যোগ করুন ও উভয় দিকে বর্ধিত করুন।

উচ্চতা মাপুন, চ্যানেলের লো থেকে চ্যানেলের হাই।

BBS
ট্রেডিং স্ট্র্যাটেজি
Trading strategy
এন্ট্রিঃ ব্রেক আউট কনফার্ম হলে সেল দিন।
স্টপলসঃ চ্যানেলের ভিতরে লাস্ট সুইং হাই।
টার্গেটঃ চ্যানেলের লোয়েস্ট পয়েন্ট থেকে উচ্চতা ব্রেক আউট পয়েন্ট থেকে বিয়োগ করুন।

ডিসেন্ডিং চ্যানেল
Descending Channel
(with measuring rules)
ডিসেন্ডিং চ্যানলে  আপ ব্রেক হয়।

অংকন
কমপক্ষে দুইটা সুইং হাই যোগ করুন ও উভয় দিকে বর্ধিত করুন। এবার অনুরূপভাবে দুইটা সুইং লো যোগ করুন ও উভয় দিকে বর্ধিত করুন।
উচ্চতা মাপুন, চ্যানেলের লো থেকে চ্যানেলের হাই।
Video


ট্রেডিং স্ট্র্যাটেজি
Trading strategy
এন্ট্রিঃ ব্রেক আউট কনফার্ম হলে বাই দিন।
স্টপলসঃ চ্যানেলের ভিতরে লাস্ট সুইং লো।
টার্গেটঃ চ্যানেলের লোয়েস্ট পয়েন্ট থেকে উচ্চতা ব্রেক আউট পয়েন্টে  যোগ করুন।

Divergence


বিচ্যুতি বা ডাইভার্জেন্স

Video



অনেকগুলি সুইং এর উপর ভিত্তি করে ট্রেন্ড সৃষ্টি হয়। ট্রেন্ড্রের শক্তি বুঝার জন্য মোমেন্টাম গুরুত্বপূর্ণ। কখন মোমেন্টাম হ্রাস পায়, ট্রেন্ডের দিক পরিবর্তনের জন্য এটা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মোমেন্টামের পরিবর্তন থেকে ট্রেন্ডের গতি পরিবর্তনের আগাম বার্তা পেতে পারি।

প্রাইস ও অসিলেটর পরস্পর একই দিকে চলে। কিন্তু কখনো বিপরীতমুখী চলতে দেখা যায়। পরস্পরের প্রতি বিশ্বস্ততার এই বিচ্যুতিকেই ডাইভার্জেন্স বলে।



ডাইভার্জেন্স দুই প্রকার

রেগুলার ডাইভার্জেন্স ও হিডেন ডাইভার্জেন্স
(Regular Divergence and Hidden Divergence)

রেগুলার ডাইভার্জেন্স (Regular Divergence)

নিচের চিত্রে সবুজ লাইন দিয়ে দেখানো হয়েছে যে প্রাইস যখন লোয়ার লো তৈরি করে ম্যাকডি তখন হাইয়ার লো তৈরি করে। এইটাই পজিটিভ বা বুলিস ডাইভার্জেন্স, আসন্ন আপট্রেন্ডের ইংগিত।

একই চিত্রে লাল লাইন দিয়ে দেখানো হয়েছে যে প্রাইস যখন হাইয়ার হাই তৈরি করে ম্যাকডি তখন হাইয়ার লো তৈরি করে। এইটা নেগেটিভ ডাইভার্জেন্স বা বিয়ারিস ডাইভার্জেন্স।

হিডেন ডাইভার্জেন্স (Hidden Divergence)
ইতিপুর্বে আমরা দেখেছি রেগুলার ডাইভার্জেন্স থেকে কিভাবে ট্রেন্ড রিভার্সাল শনাক্ত করা যায়। এবার আমরা দেখব হিডেন ডাইভার্জেন্স থেকে কিভাবে ট্রেন্ড কন্টিন্যুয়েশন বুঝতে পারা যায়।

হিডেন বুলিস ডাইভার্জেন্স (Hidden Bullish Divergence)


উপরের চিত্রে দেখানো হয়েছে প্রাইস যখন হাইয়ার লো তৈরি করে ম্যাকডি তখন লোয়ার লো তৈরি করে, প্রাইস আবার বুল ট্রেন্ড অনুসরন করে। এইটাই হিডেন বুলিস ডাইভার্জেন্স।


হিডেন বিয়ারিস ডাইভার্জেস ( Hidden Bearish Divergence)

উপরের চিত্রে প্রাইস যখন লোয়ার হাই তৈরি করে ম্যাকডি তখন হাইয়ার হাই তৈরি করে, প্রাইস আবার ডাউনট্রেন্ড অনুসরন করে। এইটাই হিডেন বিয়ারিস ডাইভার্জেন্স।

হিডেন ডাইভার্জেন্স একটা ট্রেন্ড কন্টিন্যুয়েশন প্যাটার্ন। যারা ব্যতিক্রমী বুলিস ট্রেন্ড খুঁজেন তারা হিডেন বুলিস ডাইভার্জেন্স খুঁজে দেখতে পারেন।





Friday, 25 December 2015

Strategy

Trading Strategy
ট্রেডিং স্ট্র্যাটেজি
ট্রেডের জন্য আপনি কি কৌশল অবলম্বন করেন?

অনেকেই আছেন যারা আইপিও পেয়ে আর বেচেন নাই। বৎসরের পর বৎসর ধরে রেখেছেন। শুধু ডিভিডেন্ড নেন। বহুবার শেয়ার মুল্য ফেস ভেলুর নিচ থেকে তিন, চার বা শতগুন বেড়েছে কিন্তু তারা অবিচল। আমি এখানে তাদের কথা বলব না। তাদের টেকনিক্যাল বা ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস দরকার নাই। যাদের টেকনিক্যাল এনালাইসিস দরকার এবং আমার এনালাইসিস থেকে ধারনা নিতে চান আমি শুধু তাদের স্ট্র্যাটেজি সম্বন্ধেই এখানে আলোচনা করব।

Bottom Trader
বটম ট্রেডার


অনেকেই গভীরভাবে শেয়ার মুভমেন্ট পর্যবেক্ষণ করেন। কখন মুল্য নিচে নামবে। যখন মনে করেন আর নামবে না তখন কেনেন। তারপরেও যদি দাম পড়ে যায় তখন আরো কিনে মুল্য এডজাস্ট করেন। এরা সাধারণত কোন স্টপলস দেন না। তারপর এক সময় শেয়ারটা বুলট্রেন্ডে যায়। ইতিমধ্যে মুল্য বহুবার আপ-ডাউন করে। কিন্তু তারা তাদের লক্ষ্যে অবিচল থাকেন। তাদের কাংখিত লক্ষ্যে পৌছলেই বিক্রী করেন আবার মুল্য কমার জন্য অপেক্ষা  করতে থাকেন। এই ধরনের ট্রেডাররা আপ ও ডাউন টারগেটের ধারনা চান। এরা স্টপলস নিয়ে মাথা ঘামান না।

Swing Trader
সুইং ট্রেডার



মুল্য যখন উপরে উঠতে শুরু করে তখন আমি যে তীর দিয়ে ট্রেন্ড দেখানোর চেস্টা করি ওই তীর বরাবর উঠে না। বারবার আপ ডাউন করে এক সময় তীরের মাথায় বা তার কাছাকাছি পৌঁছায়। সুইং ট্রেডাররা যখনই প্রাইস তার সাপোর্ট থেকে আবার ঊর্ধ্বমুখী হয় তখনি কেনেন আবার কারেকশনের মুহূর্তে বিক্রী করে দেন। যেসমস্ত সুইং ট্রেডার আমার এনালাইসিস দেখেন ও বুঝার চেস্টা করেন তারা যেন নিজেরাই নিজেদের বাই-সেলের স্ট্র্যাটেজি তৈরি করে নেন। কারন আমি সাধারণতঃ ট্রেন্ড আইডেন্টিফাই ও সম্ভাব্য টারগেট সম্বন্ধে ধারনা দিতে চেস্টা করি। একটা বুলট্রেন্ডের মাঝে কতবার আপনি বিক্রী করবেন আর কতবার কিনবেন এটা আমি দেখাইনা, দেখানো সম্ভবও না।

Trend


ট্রেন্ড  বা প্রবণতা
Trend
Video




ট্রেন্ড হ'ল কোনও বাজারের বা সামগ্রীর দামের সামগ্রিক দিক। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে  আপট্রেন্ডের জন্য উচ্চতর সুইং হাই এবং উচ্চতর সুইং লো (higher high and higher low) তৈরি করে, বা ডাউন ডাউনট্রেন্ডের জন্য নিম্নতর সুইং লো এবং নিম্নতর সুইং হাইগুলি (lower low and lower high) তৈরি করে।



ট্রেন্ড বাজার বা সম্পদের মূল্যের উর্দ্ধমুখী বা নিম্নমুখী প্রবণতা। ট্রেন্ড স্বল্পস্থায়ী বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
বলা হয়ে থাকে, Trend is your friend. ট্রেন্ডের অনুকূলেই বাই সেল করতে হয়। সুদের হার, কারেন্সি মার্কেট, মূলধন সব মার্কেটেই ট্রেন্ড বিদ্যমান।

বুলিশ
Bullish


প্রাইস যখন হাইয়ার হাই ও হাইয়ার লো তৈরি করে।


বুলিশ মার্কেট
Bullish Market
শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পায়, ভবিষ্যৎ লাভের আশায় বিনিয়োগকারির বিনিয়োগের আস্থা বৃদ্ধি পায়।


বিয়ারিস বা মন্দা
Bearish


প্রাইস যখন লোয়ার লো ও লোয়ার হাই তৈরি করে।

বিয়ারিস মারকেট বা  মন্দা বাজার
Bearish Market
শেয়ারের মূল্য হ্রাস পায়, ভবিষ্যৎ লোকসানের আতঙ্কে বিনিয়োগকারির বিনিয়োগের আস্থা হ্রাস পায়।


মধ্যম বা নিরপেক্ষ 
Neutral
প্রাইস যখন কোন দিকেই যায় না, সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্সের মধ্যে বাঁধা থাকে।

স্বল্প মেয়াদি ও দীর্ঘ মেয়াদি ট্রেন্ড
Short term trend and Long term trend
কখনো ট্রেন্ড কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েক দিন বা সপ্তাহ স্থায়ী হয় (Short term trend)। আবার কখনো ট্রেন্ড কয়েক মাস থেকে কয়েক বৎসর স্থায়ী হয় (Long term trend)।
গোল্ডের লংটার্ম ট্রেন্ড (১৯৯৩-২০১১)




একাধিক টাইম ফ্রেমে ট্রেড করা যায়। কেউ পসন্দ করে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ , আবার কেউ  পসন্দ করে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর।


ট্রেন্ডের দিক পরিবর্তন।
Reversal
মূল্য কখনো ঊর্ধ্বমুখী আবার কখনো নিম্নমুখী থাকে। মার্কেট যখন ওভারসোল্ড অবস্থায় যায় তখন এমন এক পর্যায় আসে যখন বিক্রেতাদের হাতের স্টক বা ইকুইটি শেষ হয়ে যায়। কিন্তু বাজারের চাহিদা থাকে। স্টক বা ইকুটির মূল্য বাড়তে থাকে। আবার এর বিপরীত অবস্থা হলে মূল্য কমতে থাকে। এভাবেই ট্রেন্ডের দিক পরিবর্তন ঘটে।


ট্রেন্ড লাইন
Trend Lines

একজন ট্রেডারের টুলবক্সের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন ও মৌলিক টুল এই ট্রেন্ড লাইন।
প্রাইসের উপর বা নিচে দিয়ে আঁকা কৌনিক সরল রেখা যা ভবিষ্যৎ প্রাইস নির্দেশক। বর্তমান ট্রেন্ডের দিক ও দিকের পরিবর্তন বুঝার জন্য আমরা ট্রেন্ড লাইন ব্যবহার করি।


ব্রাক ব্যাঙ্কের ডাউন ট্রেন্ড ও দিক পরিবর্তন

এছাড়া সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স শনাক্ত করতে ও নতুন ট্রেডিং সুযোগ খুঁজে বের করতে ট্রেন্ড লাইনের ব্যবহার আছে।
নিচের চিত্রে সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স শনাক্ত করা হয়েছে।



কিভাবে ট্রেন্ড লাইন আঁকবেন
আপট্রেন্ডের ক্ষেত্রে

Video



সুইং লো'র সংগে হাইয়ার সুইং লো যোগ করুন।
নিচে বেক্সিমকো ফার্মার আপট্রেন্ডে ট্রেন্ড লাইন দেখানো হলো।


ডাউন ট্রেন্ডের ক্ষেত্রে
Video



সুইং হাই'র সঙ্গে লোয়ার সুইং হাই যোগ করুন।
নিচে ব্রাক ব্যাঙ্কের ডাউনট্রেন্ডে ট্রেন্ড লাইন দেখানো হলো।
ব্রাক ব্যাঙ্কের ডাউন ট্রেন্ড ও দিক পরিবর্তন

টম ডুমার্কের ট্রেন্ডলাইন ব্রেক আউট সিস্টেম
(আমরা এখানে মূলতঃ ট্রেন্ড লাইন ব্রেক আউট সিস্টেম আলোচনা করব)
ট্রেন্ড লাইন ব্রেক করলে সাধারণতঃ মুল্য যে দিকে ব্রেক করে ঐদিকে নামতে বা উঠতে থাকে। কতটুকু নামবে টম ডুমার্ক নিচের পদ্ধতিতে দেখিয়েছেন।
প্রথমে ট্রেন্ড লাইন অঙ্কন করি।
এবার ট্রেন্ড লাইন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য নিরূপণ  করি, AB ।
এই দৈর্ঘই কতটুকু উপরে উঠবে বা নিচে নামবে, CD।

ডেমোনেস্ট্রেশন (Demonstration)
বাস্তব উদাহরন হিসাবে Delta Brac Housing (DBH) ট্রেড করতে পারি (ডেমো)।  চার্টটা ব্রেক আউটের অপেক্ষায়।
এখানে ট্রেন্ড লাইনের সঙ্গে মূল্যের সর্বোচ্চ দূরত্ব AB, মুল্য যেখানে ট্রেন্ড লাইনের সঙ্গে মিলিত হয়েছে সেইটা C. C এর সঙ্গে AB সমান দূরত্ব যোগ করি। CD বা ১৩৮ কাংক্ষিত প্রফিট টার্গেট।

(এই সংগে Bearish Flip অংশটুকুও পড়ুন)।






Support & Resistance

সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স
চার্টে সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স এমন একটা লেভেল যেখানে বিদ্যমান ট্রেন্ড থেমে যাওয়ার বা রিভার্স করার সম্ভাবনা থাকে। 

চার্টে ট্রেন্ড লাইন বা মুভিং এভারেজ দিয়ে সাপোর্ট রেজিস্ট্যান্স অনুসন্ধান করার চেষ্টা করা হয়। কখনো পিভট, ফাইবোনেসি লেভেল থেকেও সাপোর্ট, রেজিস্ট্যান্স ও রিভার্সাল পয়েন্ট/জোন অনুমান করা হয়।

সাপোর্ট
Support
একটা প্রাইস লেভেল বায়াররা ধরে রাখে, এর নিচে প্রাইস নামতে দেয় না। এখানে বায়াররাই ডমিনেট করে।

রেজিস্ট্যান্স
Resistance
একটা প্রাইস লেভেল সেলাররা ধরে রাখে যার উপরে প্রাইস উঠতে দেয়না। এখানে সেলাররাই ডমিনেট করে।


Red line = Resistance, Green line = Support

সাপোর্ট রেজিস্ট্যান্সে ও রেজিস্ট্যান্স সাপোর্টে পরিবর্তিত হয়ে থাকে।
Video


Support turned into resistance


Resistance turned into support



ফাইবোনেচি সাপোর্ট / রেজিস্ট্যান্স ও  রিট্রেসমেন্ট লেভেল
Fibonacci Retracement Levels
ফাইবোনেসি সাপোর্ট/ রেজিস্ট্যান্স লেভেল সমান্তরাল রেখা।
ফাইবোনেচি রিট্রেসমেন্ট লেভেল অনুসন্ধান করতে সাম্প্রতিক সুইং হাই ও সুইং লো বের করতে হবে। ডাউনট্রেন্ডের ক্ষেত্রে সুইং হাইতে ক্লিক করে সুইং লো পর্যন্ত টেনে আনুন। আর আপট্রেন্ডের ক্ষেত্রে সুইং লো তে ক্লিক করে সুইং হাই পর্যন্ত টেনে নিতে হবে।


কিভাবে ফাইবোনেসি রিট্রেসমেন্ট টুল ব্যবহার করব?
১। ট্রেন্ড শনাক্ত করুন।
২। ফাইবোনেসি রিট্রেসমেন্ট টুল উপরে ধরুন। ডাইনে টানুন, এই অবস্থায় রেখে বটম পর্যন্ত টেনে নিন।
৩। ০.২৩৬, ০.৩৮২ ও ০.৬১৮ এই পয়েন্টগুলি পর্যবেক্ষণ করুন।

ফাইবোনেসি রিট্রেসমেন্ট রিট্রেসমেন্ট ও প্রজেকশন লেভেল
রিট্রেসমেন্ট লেভেল ০.৩৮২, ০.৬১৮ ও এদের সংগে সংস্লিষ্ট পুলব্যাক রেঞ্জ খুব ইম্পর্টেন্ট। কারন এই দুইটা রিট্রেসমেন্ট অধিকাংশ সময় ঘটে থাকে।


Video 





প্রাইস যখন নিচে নামতে থাকে তখন সাপোর্ট ভেঙ্গে নিচে নামে।  পরে আগের সাপোর্টই রেজিস্ট্যান্সে পরিবর্তিত হয়ে যায়।

অনুরূপভাবে রেজিস্ট্যান্সও সাপোর্টে পরিবর্তিত হতে পারে।

এছাড়াও আরো কিছু সাপোর্ট রেজিস্ট্যান্স আছে। যেমন ফাইবো সাপোর্ট/রেজিস্ট্যান্স, সাইকোলজিক্যাল সাপোর্ট/রেজিস্ট্যান্স।

সাপোর্ট এন্ড রেজিস্ট্যান্স ট্রেডিং স্ট্র্যাটেজি

রেঞ্জ বাউন্ড ট্রেডিং
মার্কেট যখন সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্সের মধ্যে থাকে তখন ট্রেডাররা রেঞ্জ বাউন্ড মুভমেন্টের সুযোগ নেয়। অবস্থাটা একটা ঘরের ছাদ ও মেঝের সংগে তুলনা করা যায়।
প্রাইস যখন মেঝেতে থাকে তখন ক্রয় আর যখন ছাদে থাকে তখন সেল। অনেক সময় সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স ব্রেক করতে পারে। এই জন্য অন্যান্য ইন্ডিকেটর দেখে সেটা অনুমান করে নিতে হয়। এই জন্য কঠিন ভাবে মানি ম্যানেজমেন্ট নিয়মগুলি মেনে চলা আবশ্যক।


ব্রেক আউট স্ট্র্যাটেজি / পুলব্যাক
সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্সের মধ্যে প্রাইস সব সময় আবদ্ধ থাকেনা। প্রাইস এক সময় সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স ভেঙ্গে তার পথ করে নেয়। বিভিন্ন ইন্ডিকেটর দেখে ব্রেক আউট অনুমান করে নিতে হয়। 




অনেক সময় ফলস ব্রেক আউট হয়। এই জন্য পুলব্যাক বা রিটেস্টের জন্য অপেক্ষা করে এন্ট্রি দেওয়া সমীচীন।

ট্রেন্ডলাইন স্ট্র্যাটেজি
আপ ও ডাউনট্রেন্ডের সময় ট্রেন্ড লাইন এঁকে বাই বা সেল করা যায়।


মুভিং এভারেজ থেকে
মুভিং এভারেজ একটি ডায়নামিক সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স। ট্রেন্ডিং মার্কেটে মুভিং এভারেজ ব্রেক আউট একটা বাই বা সেলের উপযুক্ত স্পট।  বহুল প্রচলিত মুভিং এভারেজ ২০, ৫০, ২১। অনেকে ১০০, ২০০ ও ব্যবহার করে থাকেন। মুভিং এভারেজ রেঞ্জ বাউন্ড মার্কেটে ভুল সিগন্যাল দিয়ে থাকে।
এখানে মুভিং এভারেজ ২০। 
ট